বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলার সংবাদ জগৎ

বিশ্বস্ত সূত্রে বাংলাদেশের প্রতিদিনের খবর

জাতীয়

স্বজনের কাঁধে ভর করে ভোট দিতে এলেন জসিম-অমেলা

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ · তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট

ঠাকুরগাঁও ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। চলাফেরার জন্য প্রয়োজন লাঠি কিংবা অন্যের সাহায্য। তবু ভোট দেওয়ার আগ্রহে কোনো কমতি নেই। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে লাঠি ও অন্যের কাঁধে ভর করে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন ৯৮ বছর বয়সী মো. জসিম উদ্দিন ও ৮৯ বছর বয়সী অমেলা বেওয়া। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে তাদের এই উপস্থিতি নজর কেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন তারা।

কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ৯৮ বছর বয়সী জসিম উদ্দিন এক আনসার সদস্যের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে কষ্ট হলেও ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে আসেন তিনি।

অন্যদিকে, ৮৯ বছর বয়সী অমেলা বেওয়া তার ভাগনে আব্দুল রশিদের কাধে ভর করে ভোটকেন্দ্রে আসেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ার এই আগ্রহ তাদের কাছে ভোটাধিকারের গুরুত্বই তুলে ধরে।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ছে। ভোটাররা ধীরে ধীরে কেন্দ্রে আসছেন এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৭৬ জন।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন, বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাচজন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এরপর এই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন: