সৌদিতে বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ : কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এফএম অ্যাসোসিয়েটসের পার্টনার অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ নিজে আবেদনকারী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
রিটে পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সেখানকার শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে বিবাদীদের কথিত ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসংগত ঘোষণা করা হবে না এবং তাদের প্রযোজ্য আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির প্রার্থনা করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে রিটে।
পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের সব বিদেশি মিশনে নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের জানা মামলাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা, আপিল বা ক্ষমার আবেদনের আসন্ন সময়সীমা শনাক্ত করা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সৌদি আরবের আলোচিত ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কী নথি ছিল এবং কী সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, আটক নাগরিকদের পক্ষে পরিবারের আবেদন করার সামর্থ্য না থাকা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কিংবা আইনি সহায়তা পাওয়ার অসুবিধা জরুরি পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়। একই সঙ্গে আবেদনকারী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর কথা স্বীকার করে সহায়তা যথাসময়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনার আবেদন জানিয়েছেন।
রিটে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, মামলার তথ্য ও কনস্যুলার সহায়তার প্রকৃত অবস্থা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে চাওয়া প্রতিকারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা আদালতের বিরুদ্ধে আদেশ চাওয়া হয়নি বলে জানান রিটকারী।