স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু, তিন দিনের শোক ঘোষণা

স্পেনে মাদ্রিদের কাছে দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে, ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোট গণনায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জোট কোনোটিই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি।
রিপোর্টিংয়ে মরিয়ম সুলতানা, সম্পাদনায় ফৌজিয়া সুলতানা
বিবিসি বাংলার লাইভপাতা আজ এখানেই শেষ হলো।
স্পেনে আজকের ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসছে।
জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আর স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া বলেছেন, তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা “গুরুতর”।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “সব হাসপাতাল তাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে। জরুরি সেবা ও অপারেশন থিয়েটারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনর্গঠিত করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সানচেজ বলেন, “এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, দু'টি দুর্ঘটনার কারণের মধ্যে কোনো মিল নেই। তবে তদন্তের মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। স্পেনের মতো একটি দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দু'টি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো।
ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট বাতিল করার একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তাকে দেখা গেছে।
রোববার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান বলসোনারো। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।
ফ্লোরিডার মায়ামি-ওপা লোকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন বলসোনারো।
এ সময় তাকে ঘিরে ধরেন আলোকচিত্রীরা। তখন তাকে আড়াল করতে তার সহযোগীরা ছাতা ধরে রাখেন।
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিল থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। সেখানে পৌঁছানোর আগে তাকে বেশ কয়েকটি জায়গা হয়ে যেতে হয়েছে। তিনি প্রথমে ব্রাজিলের সীমান্ত পেরিয়ে আর্জেন্টিনায় গেছেন।
আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থলপথে ব্রাজিলের সীমান্ত পেরিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন বলসোনারো। এরপর তাদের বহনকারী বিমানটি জ্বালানি নিতে ইকুয়েডরের বৃহত্তম শহর গুয়ায়াকিলে থামে।
সেখান থেকে বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির উদ্দেশে রওনা হন।
আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফ্লোরিডায় দেখা গেছে বলসোনারোকে।
আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ফার্নান্দা এবং তার দুই মেয়ে লুইজা ও ক্যারোলিনা।
ফ্লোরিডার বিমানবন্দরে ধারণ করা ছবি ও ভিডিওতেও বলসোনারোর পেছনে তার এক মেয়েকে বিমান থেকে নামতে দেখা গেছে।
তবে ফ্লোরিডাই তার চূড়ান্ত গন্তব্য কি না, নাকি সেখান থেকে তিনি অন্য কোথাও যাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রোববার নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে দুই দিন তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর তার অবস্থান নিয়ে সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।
এদিকে, তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বলসোনারোকে তার পাসপোর্টগুলো জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই নির্দেশ মানেননি।
আর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। কিন্তু তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্পেনে যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তার একটিতে ছিলেন সাংবাদিক রবার্তো গোমেজ। সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
গোমেজ জানান, দ্রুতগতির ট্রেনটি থেমে যাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে যাত্রীদের জানানো হয় যে লাইনে যানজট রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর ট্রেনটি আবার চলতে শুরু করে এবং এরপরই সংঘর্ষ ঘটে।
তিনি ওন্দা সেরো রেডিওকে বলেন, “ধাক্কাটা ছিল ভয়াবহ। আপনি কল্পনা করতে পারেন, বগিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে; ভেঙে যাওয়া বগির ভেতরে সব স্যুটকেস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে!”
গোমেজ নিজে সামান্য আহত হন। তবে তিনি জানান, আরেক যাত্রী তার ওপর পড়ে যান এবং ওই যাত্রীর মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আমরা বুকে ও পাঁজরে গুরুতর আঘাত পাওয়া মানুষদের সহায়তা করতে পেরেছি।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও মানসিকভাবে খুবই কষ্টদায়ক। কয়েক মিনিট পর তিনি এবং অন্যরা শেষ পর্যন্ত জানালা দিয়ে বের হতে সক্ষম হন।
এদুয়ার্দা নামের একজন তার দুটি বিড়াল নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি স্প্যানিশ রেডিও অনুষ্ঠান ‘হয় পর হয়’কে বলেন, সংঘর্ষের ধাক্কায় তিনি সামনে ছিটকে পড়েন এবং তার আসনের সামনের টেবিলটি ভেঙে যায়। আশপাশের অনেক যাত্রী আঘাত পান।
ট্রেন থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি চিৎকারের শব্দ শুনতে পান এবং একটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। তিনি আরও বলেন, ট্রেনের নিচে নিহত ব্যক্তিদেরও তিনি দেখতে পান।
অন্যদিকে, মিগেল আঞ্জেল পেরেজ উচ্চগতির ট্রেনটিতে ছিলেন যখন তিনি “একটি ভয়ংকর সংঘর্ষের শব্দ” শুনতে পান।
তিনি স্প্যানিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘লা ওরা দে লা ১’-কে বলেন, “বগিটি আংশিকভাবে উল্টে গিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “খোলা ট্রে-টেবিলের আঘাতে কিছু যাত্রী জখম হন। তবে সৌভাগ্যবশত খুব কম মানুষই দাঁড়িয়ে ছিলেন।”
“আমরা ট্রেনটিকে নড়তে, লাইনচ্যুত হতে এবং একদিকে হেলে পড়তে অনুভব করেছি। কয়েক সেকেন্ড ছিল ভয়ংকর।”
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে পৌঁছেছে বলে স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এর আগে জানানো হয়েছিল যে, গুরুতর আহত অবস্থায় আরও বহু মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, “আজ পুরো স্পেন শোকাচ্ছন্ন” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থাপিত জরুরি কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, “অনেক জীবন চুরমার হয়ে গেছে, পরিবারগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে; এই যন্ত্রণা অপরিসীম।”
স্পেনের সিভিল গার্ডের প্রকাশ করা ড্রোনের ছবিতে দুর্ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা দেখা গেছে।
লাইনচ্যুত ট্রেনের বগিগুলোর চারপাশে অসংখ্য গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।
উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে মাটিতে শুয়ে থাকা আহত ব্যক্তিদেরও দেখা গেছে।
ট্রেন দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলো যাচাই করেছে বিবিসি ভেরিফাই।
যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে উল্টে পড়ে আছে।
প্রথম বগিটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর চারপাশে ছ