বাগেরহাটে সিম বিক্রেতাকে কুপিয়ে নগদ টাকা ও সিমকার্ড ছিনতাই

বাগেরহাট ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০২ বাগেরহাটে মো. আল আমিন ইসলাম (৩৫) নামের এক সিম বিক্রেতাকে কুপিয়ে জখম করে নগদ টাকা ও সিমকার্ড ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের কাঠালতলা ফুটবল মাঠের সামনে রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত মো. আল আমিন ইসলাম বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের গোলদার শেখের ছেলে। তিনি বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশনের খুচড়া বিক্রিয় কর্মকর্তা (আরএসও) হিসেবে কাজ করতেন।
বাংলালিংকের আরেক বিক্রয়কর্মী শরিফুল ইসলাম বলেন, আল আমিন সিএন্ডবি বাজার এলাকায় মার্কেট শেষ করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য শহরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাঠালতলা নামক স্থানে একটি সবুজ রংয়ের এফজেড মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন ব্যক্তি তার গতি রোধ করেন। তাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ডান ঘারের ওপর কোপ দেন। তিনি পড়ে গেলে তার কাছে থাকা নগদ টাকা, সিম ও সিমকার্ড নিয়ে যান ছিনতাইকারীরা। পরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করি।
বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের ব্যবস্থাপক ছিনতাইকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে টাকা, সিম ও সিমকার্ডসহ ব্যাগ নিয়ে যান। রিচার্জ বিক্রির টাকা ছিল তার কাছে। তবে কত টাকা ছিল এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটে বিক্রয়কর্মীদের কাছ থেকে এটাই প্রথম ছিনতাই না। গেল দেড় মাসে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। বিকাশ কর্মী, ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানরে কর্মীরা ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালনের দাবি জানান তিনি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ সোহেলুর রহমান বলেন, তার ঘারে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে। আপতত তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীণ রয়েছে।
এর আগে গেল ৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের হেরেমের মোড় এলাকায় অস্ত্রের মুখে এক বিকাশকর্মীর কাছ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া গেল দুই মাসে জেলার চিতলমারীসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।