বাংলাদেশ কোস্টগার্ডে প্রশিক্ষণ নিলেন ৮ বিদেশি নৌসদস্য

পটুয়াখালী ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৪ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজিত ‘ব্রাউন ওয়াটার অপারেশন অ্যান্ড অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং কোর্স-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে সাতটি দেশের নৌসদস্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্টগার্ড জানায়, পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় গত ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কেনিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মোট আটজন বিদেশি প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুইজন এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দুইজন সদস্যসহ সর্বমোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে কোর্সটি সম্পন্ন করেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোস্টগার্ড আরও জানায়, এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ ছিল অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি, নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অভিযান পরিচালনার দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে সক্ষমতা জোরদার করা। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান নৌসদস্য লেফটেন্যান্ট লুক জেমস ওকলি বলেন, বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের খুবই ভালো লাগছে। প্রশিক্ষণ সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।
কেনিয়ার প্রশিক্ষণার্থী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাথান কিপটু কিপটারাস বলেন, বাংলাদেশ সত্যিই চমৎকার। এখানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন, সামুদ্রিক অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষে ভবিষ্যতেও বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।